শিশুর টিকার তালিকা ২০২৬: কোন টিকা কখন দিতে হবে?
সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬
শিশুর জন্মের পর প্রথম দুই বছর টিকা দেওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। সঠিক সময়ে টিকা পেলে শিশু যক্ষ্মা, হাম, নিউমোনিয়া ও পোলিওর মতো মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকে। এই লেখায় বাংলাদেশের সরকারি EPI কর্মসূচি অনুযায়ী শিশুর টিকার তালিকা সহজ ভাষায় দেওয়া হলো।
EPI কী ও টিকা কোথায় পাবেন?
EPI (Expanded Programme on Immunization) হলো সরকারের বিনামূল্যের টিকাদান কর্মসূচি। এটি ১৯৭৯ সাল থেকে চলছে। টিকা পাওয়া যায় সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডভিত্তিক EPI কেন্দ্রে।
শিশুর টিকার তালিকা (জন্ম থেকে ১৫ মাস)
| বয়স | টিকা | যে রোগ থেকে সুরক্ষা |
|---|---|---|
| জন্মের পর (যত দ্রুত সম্ভব) | BCG | যক্ষ্মা |
| ৬ সপ্তাহ | Pentavalent-১, PCV-১, OPV-১, IPV-১ | ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস বি, Hib; নিউমোনিয়া; পোলিও |
| ১০ সপ্তাহ | Pentavalent-২, PCV-২, OPV-২ | একই রোগসমূহ |
| ১৪ সপ্তাহ | Pentavalent-৩, PCV-৩, OPV-৩, IPV-২ | একই রোগসমূহ |
| ৯ মাস পূর্ণ হলে | MR-১ | হাম ও রুবেলা |
| ১৫ মাস | MR-২ | হাম ও রুবেলা |
| ১৫–২৪ মাস | TCV (একটি ডোজ) | টাইফয়েড |
মনে রাখুন: সপ্তাহ ও মাস গণনা শিশুর জন্ম তারিখ থেকে। তাই টিকা কার্ডে প্রতিটি টিকার সম্ভাব্য তারিখ লিখে রাখুন।
প্রতিটি টিকা কী কাজ করে?
- BCG: যক্ষ্মার (বিশেষত শিশুর মারাত্মক যক্ষ্মার) বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।
- Pentavalent: একটি টিকায় পাঁচটি রোগ থেকে সুরক্ষা: ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস বি ও Hib।
- PCV: নিউমোনিয়াসহ নিউমোকক্কাল রোগ প্রতিরোধ করে।
- OPV ও IPV: পোলিও প্রতিরোধ করে। OPV খাওয়ানো হয়, IPV ইনজেকশনে দেওয়া হয়।
- MR: হাম ও রুবেলা থেকে সুরক্ষা দেয়।
- TCV: টাইফয়েডের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে এটি নিয়মিত টিকাদানের অংশ।
টিকা মিস হলে কী করবেন?
- সিরিজ নতুন করে শুরু করতে হয় না। যে ডোজ বাকি, সেখান থেকে চালিয়ে যান।
- দেরি না করে নিকটস্থ EPI কেন্দ্রে বা চিকিৎসকের কাছে যান।
- BCG জন্মের সময় না দেওয়া গেলে সাধারণত ৬ সপ্তাহের ভিজিটে দেওয়া যায়।
- হাম প্রাদুর্ভাব বা বিশেষ ক্যাম্পেইনের সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অতিরিক্ত নির্দেশনা দিতে পারে। স্থানীয় EPI কেন্দ্রের ঘোষণা অনুসরণ করুন।
টিকা দেওয়ার পর কী হতে পারে?
সাধারণ ও সাধারণত নিজে নিজে ভালো হয়ে যায়:
- হালকা জ্বর
- ইনজেকশনের জায়গায় লালচে ভাব, ফোলা বা ব্যথা
- একটু খিটখিটে মেজাজ বা ঘুম বেশি
এই লক্ষণে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যান:
- শ্বাসকষ্ট, মুখ বা ঠোঁট ফুলে যাওয়া, সারা গায়ে র্যাশ
- খিঁচুনি
- তীব্র জ্বর যা কমছে না
- শিশু একনাগাড়ে অনেকক্ষণ কাঁদছে বা খুব নিস্তেজ
জ্বর কমাতে কোনো ওষুধ দেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। শিশুর ওষুধের মাত্রা ওজন অনুযায়ী ঠিক করতে হয়।